Description
গ্লোবাল ক্যারিয়ার গাইডলাইন সিরিজের বিদেশে পড়ালেখা এই বইটি কেন বা কতটুকু সহযোগীতায় আসবে? বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, মালেশিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ বাংলাদেশী পড়াশোনা ও বিভিন্ন কাজে যাচ্ছে। কিন্তু সামান্য কিছু গাইড লাইনের অভাবে তারা নিজের জীবন জীবিকায় অনেক ধরনের ঝুঁকির সম্মুখিন হচ্ছে। ছয় মাসের প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনার অভাবে সারাবিশ্বে মেধাবী, দক্ষ বাংলাদেশীরা যুগ যুগ ধরে অড জব করে। দালালদের প্ররোচনায় নিজের মেধা, দক্ষতা নষ্ট করে।
আমি কেন এই গাইডলাইনটি লেখা শুরু করলাম? গত বিশ বছরে আমার ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, মালেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার, কাজ করার, পড়াশোনার এবং বৃটেনে পিএইচডি করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি প্রায় ১০ (দশ) টিরও বেশি দেশে ভ্রমণ করেছি এবং প্রতিটি জায়গায় চেষ্টা করেছি কিছুটা হলেও অভিজ্ঞতা নেয়ার। কেন মানুষ অনেক যোগ্যতা, সার্টিফিকেট এবং টাকা পয়সা থাকা সত্তেও ভালো চাকুরি পায় না, ভালো জীবিকা বা জীবন ব্যবস্থা তৈরী করতে পারে না? সেই বিবেচনা থেকে আমি প্রাথমিক ভাবে বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা এবং প্রস্তুতি এবং সেখানকার জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কে এই গাইডলাইনটি লেখার পরিকল্পনা করি। নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বইটি লেখা ।
এই গাইড লাইনের তিনটি সেকশন আছে। প্রথম সেকশন প্রস্তুতি। কোন বিশ্ববিদ্যায়লে ভর্তি হবে? সেখানে কি কি ধরণের প্রস্তুতি নিতে হবে? ভিসার জন্য কি ব্যবস্থা নিতে হবে? উচ্চ শিক্ষার জন্য সে যদি মার্স্টাস ডিগ্রি করে পিএইচডি করতে চায়, কি ধরণের যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হবে? এটাই হলো প্রথম ধাপ প্রিপারেশন বা প্রস্তুতি।
দ্বিতীয় সেকশনটির নাম হচ্ছে বিদেশ যাত্রা এবং প্রাথমিক সময়। যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষে যখন এ্যাপ্লিকেশন বা ভর্তি ফরম সাবমিট করি। তারপর যদি ভিসা পাই এরপর এডমিশনের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি। কি পড়বো? কি ধরণের পড়াশোনার যুগ আছে ইত্যাদি বিষয়ে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশনের একটা প্রসেসিং বা নিয়ম থাকে অথবা চাকুরির জন্য সিলেকশন প্রসেস থাকে। পড়াশোনার পাশপাশি কি চাকুরি করতে পারবে? সেখানে কি যোগ্যতার দরকার হবে? এটাই হচ্ছে দ্বিতীয় সেকশন এডমিশন বা সিলেকশন।
তৃতীয় অংশটি হচ্ছে বিদেশে ক্যারিয়ার এবং সাকসেস। প্রথমে যদি সবকিছু ভালভাবে সম্পন্ন করে ভালো কোন শিক্ষা প্রতিষ্টানে ভর্তির সুযোগ পাই, তাহলে সেখানে পার্ট টাইম চাকুরি করার পাশাপাশি পড়াশোনা শেষে কি চাকুরি নেবো বা যে ক্যারিয়ার তৈরী করবো এই ক্যারিয়ার কিভাবে সফল হবে। এটাই আমাদের গাইডলাইন।
কিভাবে এই গাইডলাইনটি ফলো করতে হবে? প্রাথমিক তিনটি ধাপে গাইডলাইনটি ফলো করা হবে। প্রথম হচ্ছে গাইডলাইনটির প্রতিটি সেকশন ভালভাবে পড়া এবং শেষে কিছু ওয়ার্কশিট বা একসারসাইজ করা। নোট তৈরি করার জন্য ওয়ার্কশিটে অনেকটা জায়গা রাখবো। এই নোট গুলোতে আপনি কিছু হলেও লিখবেন যে, আমি এই এই ধাপ গুলো সম্পন্ন করেছি। প্রতিটি সেকশনের প্রতিটি অধ্যায়ে বা অধ্যায়ে কিছু টাস্ক টু ডু লিস্ট করা থাকবে। কার্য তালিকায় ওই টু ডু লিস্ট অনুসারে আপনি গাইডলাইনটি পড়া শেষ করবেন। তারপর ওই টু ডু লিস্ট ধরে দ্বিতীয় ধাপটি সম্পন্ন করবেন। আপনার যেকোনো ধরনের ট্রেনিং, তা ভাষা নিয়ে ট্রেনিং হোক অথবা ওই খানে কোন ভবিষ্যত চাকুরি বা নুন্যতম চাকুরির জন্য যে ট্রেনিং গুলো দরকার সেই ট্রেনিং যদি আপনার প্রয়োজন হয় তা করানো। তৃতীয় কাজটি হচ্ছে ট্রেনিং এর পাশাপাশি কিছু কাজের অভিজ্ঞতা নেয়া। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং করে বাংলাদেশে বসে অথবা বিশ্বের যেকোনো দেশে বসে আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ আসতে চান, ইউরোপর কাজ করা যায়। ইউরোপ থেকে কানাডা যেতে চাইলে সেখানকার কাজ করা যায়। ওই কাজ গুলোর অভিজ্ঞতা নেয়া ও টেকনিক্যাল স্কিল দেয়া।
apon.uk এই ওয়েব সাইটটির মাধ্যমে এই তিনটি ধাপকে সুন্দর মতে সম্পন্ন করার একটা প্রসেস মডেল তৈরি করেছি। যারা আমাদের এই প্রসেস বা ধাপ গুলো সম্পন্ন করার জন্য আগ্রহী তারা apon.uk এই ওয়েব সাইটটি ভিজিট করতে পারন। ওয়েবসাইট গাইডলাইন অনুযায়ী ঘরে বসে শেখা এবং গ্লোবাল ক্যারিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রাকটিক্যাল এপ্লিকেশন, ফোরাম, ইত্যাদি রয়েছে। পাশাপাশি ইউটিউব চ্যানেলসহ বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় এ বিষয়ে নিয়মিত ওয়েবিনার এবং আপডেট পাওয়া যাবে। বইএর শেষে সব ওয়েব লিংকের তালিকা দেয়া আছে।
আশাকরি বইটি সবার উপকারে আসবে। লক্ষ লক্ষ সার্টিফিকেটসহ গ্যাজুয়েটরা বিশ্বে বিভিন্ন দেশে বড় বড় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে চাকুরী বা ব্যবসা করবে। পরিবার নিয়ে নিজের সুখ সমৃদ্ধি অর্জন করবে। এমনকি ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করে কনসাল্টেন্ট হিসেবে দক্ষতা অনুসারে আয় করবে। উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করবে।

Abidur Rahman (verified owner) –
বইটি খুবই ইনফরমেটিভ, প্রতিটি বিষয় খুবই বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এমন অনেক জিনিস এখানে আলোচনা করা হয়েছে যা আমরা বিদেশ যাওয়ার আগে খুব কমই চিন্তা করি, যার ফলে আমরা দেশের বাইরে যেয়ে অনেক সাফার করি। অনেক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় আমরা না জানার কারণে অনেক ভালো ভালো জব অপারচুনিটি থেকে বঞ্চিত হই, বিদেশে ক্যারিয়ার গঠনে কাঙ্খিত সফলতা আসে না, বা আসলেও অনেক দেরি হয়।
যাদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গঠনে ইচ্ছে আছে তাদের অন্তত একবার হলেও এই ই বুকটি পড়া উচিত।